ইজারাদারের, ক্ষতিপূরণ দাবি চকরিয়ার ঘনশ্যাম বাজারে উন্নয়নকাজে সংকুচিত হাটের জায়গা


admin - প্রিন্ট সংস্করণ - আপডেট - 18 October, 2026 7:02
ইজারাদারের, ক্ষতিপূরণ দাবি চকরিয়ার ঘনশ্যাম বাজারে উন্নয়নকাজে সংকুচিত হাটের জায়গা

চকরিয়া:

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ঘনশ্যাম বাজারে জাইকার অর্থায়নে পাঁচতলা ভবন নির্মাণকাজ ঘিরে জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি এলোমেলোভাবে ফেলে রাখায় হাটের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও বেচাকেনা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বাজারের ইজারাদার জসিম উদ্দিন। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ঘনশ্যাম বাজারে পাঁচতলা ভবন নির্মাণের কাজ পেয়েছে চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কাসেম কনস্ট্রাকশন। চকরিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত কার্যাদেশ গত ২৯ মার্চ প্রতিষ্ঠানটিকে দেওয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী, সেটি পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু করার কথা ছিল।

তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু হয়নি। প্রায় দুই মাস পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার বাজার এলাকায় নির্মাণশেড স্থাপন এবং নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি রাখা শুরু করেন।

এরপর থেকে বাজারের বিভিন্ন স্থানে জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচল এবং পণ্য কেনাবেচার জায়গা কমে গেছে। স্থানীয়দের মতে, বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশও এতে ব্যাহত হচ্ছে। বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিও তুলনামূলক কম দেখা যায়।

এদিকে ১৪৩৩ বাংলা সনের জন্য ঘনশ্যাম বাজার ইজারা নিয়েছেন কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের শিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন। তিনি জানান, বাজারটি ইজারা নিতে সরকারি রাজস্ব হিসেবে ১ কোটি ৫০ লাখ ৬০ হাজার ৬০০ টাকা পরিশোধ করেছেন। বিপুল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে এখন তিনি আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

জসিম উদ্দিন বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার সর্বোচ্চ ইজারামূল্য দিয়ে বাজারটি নিয়েছি। এত টাকা পরিশোধ করতে আমাকে ধারদেনা করতে হয়েছে। কিন্তু ইজারা নেওয়ার পর বাজার এলাকায় জাইকার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বহুতল মার্কেট নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ চলমান থাকায় হাটের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

এতে গরু, মহিষ ও ছাগলের হাটের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এভাবে উন্নয়নকাজ চলতে থাকলে ইজারার বিপরীতে আমাকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। আমার হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা হতে পারে। তাই পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণ কিংবা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘনশ্যাম বাজার শুধু চকরিয়া পৌরসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্রই নয়, এটি আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের পশু কেনাবেচা ও পণ্য বিপণনের অন্যতম প্রধান স্থান। চকরিয়ার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী লামা, আলীকদম, পেকুয়া, মাতামুহুরী ও মহেশখালী থেকে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা এ বাজারে আসেন। ফলে বাজারের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়লে এর প্রভাব পড়তে পারে ব্যবসায়ী,

ক্রেতা-বিক্রেতা ও ইজারাদার সবার ওপর। চকরিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শামীম ওসমান ও সহসভাপতি জয়নাল আবেদীনসহ স্থানীয়রা বলেন, শতবর্ষী এ ঐতিহ্যবাহী বাজারের গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে উন্নয়নকাজ পরিচালনা করা প্রয়োজন।

নির্মাণকাজের কারণে দীর্ঘদিন বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই উন্নয়নকাজের পাশাপাশি বাজারের চলাচল ও বেচাকেনা স্বাভাবিক রাখার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক শাহীন দেলোয়ার বলেন, এলোমেলোভাবে নির্মাণসামগ্রী রাখার বিষয়ে ভবন নির্মাণের ঠিকাদারকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। ঘনশ্যাম বাজারের ইজারাদারের আবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।