চকরিয়ায় ভুয়া ডাক্তার ও অবৈধ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্টের হানা: ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা


admin - প্রিন্ট সংস্করণ - আপডেট - 4 October, 2026 6:36
চকরিয়ায় ভুয়া ডাক্তার ও অবৈধ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্টের হানা: ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা

চকরিয়া :

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভুয়া ডাক্তার এবং লাইসেন্সবিহীন অবৈধ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এক ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ০৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে উপজেলার মালুমঘাট ও চিরিংগা পৌর শহরে পরিচালিত এই বিশেষ মোবাইল কোর্ট অভিযানে সর্বমোট ১,৮৫,০০০ (এক লক্ষ পঁচাশি হাজার) টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব শফিউল আলম। চিকিৎসা বিজ্ঞানের কোনো বৈধ ডিগ্রি বা অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করার অপরাধে ৩ জন ভুয়া ডাক্তার ও ২টি ফার্মেসিকে এই দণ্ড দেওয়া হয়।

‎দণ্ডপ্রাপ্তদের বিবরণ ও জরিমানার পরিমাণ:

মো: আলী আকবর খান (মালুমঘাট মা-মনি হাসপাতাল): ডাক্তারের ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে সার্জারি করা, বিএমডিসি (BMDC) রেজিস্ট্রেশন না থাকা এবং এনেস্থেসিয়ার ডিগ্রি ছাড়াই এনেস্থেসিয়া দেওয়ার অপরাধে তাকে ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা জরিমানা করা হয়।

‎হুসনে আরা (চিরিংগা সরকারি হাসপাতালের পশ্চিম পাশ): ধাত্রী বিদ্যার প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও ডাক্তারী প্যাড ব্যবহার করে মহিলাদের ডেলিভারি বিষয়ে অনুমতিবিহীন ঔষধ লেখার দায়ে তাকে ৬০,০০০ (ষাট হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়।

রিদুয়ানুল কবির নিশান (ডিএমএফ, সরকারি হাসপাতাল সড়ক): ডাক্তারী প্যাডে অনুমতিবিহীন বিভিন্ন ঔষধ লেখার অপরাধে ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়।

‎সোনালী ট্রেডার্স ফার্মেসী: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া অবৈধভাবে আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন রেখে আল্ট্রাসনোগ্রাফি চালানোর দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়।

সেইফ মেডিসিন কর্নার ফার্মেসী: একই অপরাধে (অনুমতি ছাড়া আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন পরিচালনা) তাকে ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (এনেস্থেশিওলজি) ডা: মো: মামুন-অর-রশিদ চৌধুরী, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: মিসকাত উদ্দীন আহমদ এবং উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আরিফুল ইসলাম চিকিৎসাগত ও কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করেন। এছাড়া চকরিয়া থানা পুলিশের একটি টিম এবং আনসার সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বিক সহায়তা দেয়।

‎উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এই ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।