
চকরিয়া :
বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল মালুমঘাট অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক-এর পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান। এই উৎসবমুখর আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বে পাশে ছিল আন্তর্জাতিক শিশু উন্নয়ন সংস্থা কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (CIB)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় উন্নয়ন কেন্দ্রের এলসিসি সম্মানিত সভাপতি মি. থিযফিল হক। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে অলঙ্কৃত করেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এলসিসি সদস্য মি. কাজল মল্লিক। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন রথী বিশ্বাস।
দিনব্যাপী আয়োজিত এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে মালুমঘাট এলাকার বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। দীর্ঘদিন পর পুরনো সহপাঠী ও বন্ধুদের কাছে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। স্মৃতিচারণ, আড্ডা, মধ্যাহ্নভোজ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পুরো আয়োজনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা মালুমঘাট অঞ্চলের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিশেষ করে, সুবিধা বঞ্চিত ও প্রান্তিক শিশুদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং দারিদ্র্য বিমোচনে কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ দীর্ঘ দুই দশক ধরে যে অবদান রাখছে, তার সাথে অ্যালামনাই নেটওয়ার্কের মেলবন্ধন আগামীতে এলাকার উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্যে জানান, শিশুদের সামগ্রিক বিকাশ (শারীরিক, সামাজিক ও মানসিক) নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাক্তন সফল শিক্ষার্থীদের (অ্যালামনাই) একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এই নেটওয়ার্ক আগামী প্রজন্মের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অনুপ্রেরণা ও ছায়া হিসেবে কাজ করবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মি. থিয়ফিল হক বলেন, “অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক শুধু অতীতের স্মৃতি মনে করার জায়গা নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ সমাজ গড়ার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে যে মানবিক ও সামাজিক শিক্ষার বীজ বপন করা হয়েছিল, আজকের শিক্ষার্থীরা সমাজে তার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।” তিনি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই বন্ধন অটুট রেখে নতুন প্রজন্মের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষভাগে মালুমঘাট অ্যালামনাই নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়। ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের তরুণ সমাজ ও শিশুদের কল্যাণে যৌথভাবে বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।